মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

জেলা ব্র্যান্ডিং পণ্য: পনির

অষ্টগ্রাম পনিরের জন্য বিখ্যাত। এর খ্যাতি সুদূর ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ধারণা করা হয় ৩০০-৩৫০ বছর আগে এখানে পনির উৎপন্ন হয়। এই জনপদের উৎকৃষ্ট পনির উৎপাদন কীভাবে শুরু হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। সম্ভবত পাঠান মোগল কিংবা দত্ত বংশীয় অভিজাত মানুষের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পনিরের উৎপাদন প্রণালিও এ দেশে আসে, পনিরের জনপ্রিয়তাও তাদের কেন্দ্র করে সৃষ্ট হয়েছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে। অষ্টগ্রামের হাওর এলাকায় আগে প্রচুর ঘাস হতো। ঘাস আবৃত অনেক জমি অনাবাদি থাকত। অষ্টগ্রাম তো বটেই, আশপাশের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নরসিংদী প্রভৃতি অঞ্চল থেকে প্রচুর গরু-মহিষের পাল এ লোভনীয় ঘাস আবৃত চারণ ভূমিতে নিয়ে আসা হতো। এই ঘাসের মধ্যে স্থানীয় ভাষায় 'চাইল্যাঘাস' অত্যন্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ। সে ঘাস দুগ্ধ উৎপাদনের জন্যও খুব সহায়ক। বৃদ্ধদের মুখে এখনো শোনা যায় মহিষের এত দুধ হতো, যা বাজারে বিক্রি করে শেষ করা যেত না, ফেলে দিতে হতো। যোগাযোগের ব্যবস্থার অসুবিধার জন্য এই দুধ বাইরে পাঠানো যেত না। সম্ভবত এই বিষয়টি পনির উৎপাদনের জন্য সহায়তা করেছিল। দুধের চেয়ে দুধের তৈরি পনির অনেক বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। শুধু মহিষের দুধেই পনির হতো। গরুর দুধে পনির হয় এটা কেউ কল্পনা করেনি।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন চাষাবাদের ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক যুগের সূচনা করেছে, তারই আওতায় ক্রমান্বয়ে অনাবাদি তৃণভূমি আবাদযোগ্য জমিতে পরিণত হয়েছে। ঘাস ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় মহিষের সংখ্যাও লোপ পেয়েছে। ফলে বর্তমানে গরুর দুধে পনির তৈরি করা হয়। অন্যদিকে বর্ষাকালে ঘাস মোটেই পাওয়া যায় না। কারণ এ সময় চারদিক পানিতে প্লাবিত থাকে। ঘাস ও খাদ্যের অভাবে কৃষকরা সস্তা দামে গরু-মহিষ বিক্রি করে দেয়। দুধের দাম থাকে অত্যন্ত বেশি। এই সময় পনির উৎপাদনকারীরা অষ্টগ্রাম অন্যত্র (যেখানে দুধের দাম কম) গিয়ে পনির উৎপাদন ও বিক্রি করে। অষ্টগ্রামের 'পনির' সর্বজনবিদিত।

জেলা ব্র্যান্ডিং বিষয়ক কর্মশালায় কিশোরগঞ্জ জেলার জেলা ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে পনিরকে নির্বাচন করা হয়েছে। ভবিষ্যত ব্যবসায়িক মূল্য, সুস্বাদু খাদ্য তালিকাভুক্তি, আর্থিক স্বচ্ছলতা, জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান এবং অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরাই হচ্ছে পনির নির্বাচনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এরই ধারাবাহিকতায় পনির ব্যবসাকে কিশোরগঞ্জ জেলার সকল উপজেলায় পনির শিল্পে রূপান্তর, পনির শিল্পের মাধ্যমে দুগ্ধ খামারীদের উৎসাহ প্রদান এবং দুগ্ধ খামারীদের উৎসাহ প্রদান এবং দুগ্ধ শিল্পকে বৃহৎ শিল্পে পরিণত করা।